Categories
All Students General People Spiritual Fitness

দেশ গঠনে যুবসমাজঃ মহৎ জীবনের অনুশীলনে হযরত মুহাম্মদ সঃএর জীবন

যৌবনকালই হচ্ছে জীবনের সর্বোত্তম সময়। যৌবন হলো একটি শক্তির নাম, যার কাজ হল  ভাঙ্গা আর গড়া,  অসম্ভবকে সম্ভব করা, যারা আদর্শের জন্য জীবন দিতে পারে। ইতিহাস প্রমাণ করে যে ১১ থেকে ৩৭ বছরের তরুণরাই মূলত হযরত মুহাম্মদ সঃএর ইসলামী সমাজ গঠনের আন্দোলনে বলিষ্ঠ নেতৃত্ব দান করেছে।  রুশ বিপ্লব চীনের মহাবিপ্লব দেশে দেশে বিরাজমান মুক্তি আন্দোলন ও আমাদের স্বাধীনতা আন্দোলনসহ সকল বিপ্লবের ইতিহাস-ই বলছে যে  যুব সমাজই সমাজ বিপ্লব আদর্শ প্রতিষ্ঠার অগ্রনায়ক।

 আর এই দেশ গঠনে বা আদর্শ সমাজ গঠনের জন্য আমাদের প্রয়োজন মহামানবদের অনুসরণ করা। এবং যিনি এই মহামানবদের শীর্ষে অবস্থান করছেন তিনি হলেন বিশ্ব মানবতার মুক্তি দূত সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ ও সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ মোস্তফা সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম।

 তিনি সৃষ্টি না হলে কিছুই সৃষ্টি হতো না। আল্লাহ পাক সমগ্র সৃষ্টির মধ্যে তাকেই শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছেন। হযরত মুহাম্মদ সঃ জিন ইনসান তথা গোটা বিশ্বের রহমত স্বরূপ আগমন করেছিলেন।  সূরা আম্বিয়ার  ১০৭ নম্বর আয়াতে  আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন  “ওমা আরসাল নাকা ইল্লা রাহমাতুল্লিল আলামিন”। অর্থাৎ আমি আপনাকে বিশ্ববাসীর জন্য রহমত  স্বরূপই প্রেরণ করেছি।  সূরা আহযাবের ২১ নম্বর আয়াতে আরো ঘোষণা করেছেন “লাকদ কানা লাকুম ফি রাসূলিল্লাহি উসওয়াতুন হাসানা”। অর্থাৎ নিশ্চয়ই সমগ্র মানবের জন্য হযরত মুহাম্মদ সাঃ এর মাঝে অনুকরণীয় সর্বোত্তম আদর্শ নিহিত আছে। 

সমস্ত নবীর জ্ঞান বিজ্ঞান ও বৈশিষ্ট্যের সমাবেশ ঘটেছিল মহানবী সাঃ এর মাঝে। তিনি ছিলেন একাধারে দূরদর্শী সংস্কারক সুদক্ষ সেনানায়ক আদর্শ শিক্ষক দক্ষ রাষ্ট্র নায়ক অভিজ্ঞ কূটনীতিক প্রেমময়ী স্বামী স্নেহশীল পিতা। তার জীবনের এমন কোন অধ্যায় নেই যা আলোচনা করলে তার শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণিত হয় না। মহান আল্লাহ তাকে বিশ্বমানবতার  প্রত্যেকটি গুণে গুণান্বিত করে সারা বিশ্বের কল্যাণস্বরূপ  ইহধামে প্রেরণ করেছেন। নারী ও ক্রীতদাসের মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় তথা মানবজাতির উন্নতি-বিধানে তার ভূমিকা অবিস্মরণীয়।

 আর যখন অসত্য, অকল্যাণ ও অনাচারে বিশ্বমানব মরোনোম্মুখ ছিল তখনও তিনি স্বীয় গুণে নবুয়ত প্রাপ্তির পূর্বেই আলামিন খেতাবে ভূষিত হন। 

নিঃস্ব ও অসহায়দের সেবা করা অত্যাচারীদের বাধা প্রদান, বঞ্চিতদের আশ্রয় এবং বিভিন্ন গোত্রের মাঝে পারস্পারিক শান্তি শৃঙ্খলা স্থাপন করা তথা প্রভৃতি কর্মসূচি সামনে রেখে যৌবন কালে মহানবী সঃ যুবকদের নিয়ে ‘হিলফুল ফুজুল’ নামে কল্যাণধর্মী একটি সংগঠন গড়ে তোলেন। মূলত চৌদ্দশত বছর পূর্বে মদিনায় রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এমন একটি সমাজ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন যেখানে ন্যূনতম শাসনের মাধ্যমে নজিরবিহীন ইনসাফ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব হয়েছিল ।

মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম ছিলেন  আধুনিক সভ্যতার নির্মাতা।  আজকের ইউরোপ বৈজ্ঞানিক ও বৈষয়িক উন্নতির সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে । জ্ঞান-বিজ্ঞান নিয়ে সর্বক্ষেত্রে তাদের যে সতর্ক পদচারণা তার পথনির্দেশ পেয়েছিল মোহাম্মদ সঃ এর কাছ থেকে। এর আগে তারা ছিল অনগ্রসর ও অসভ্য জাতি রূপে  পরিগণিত। যখন মুসলমানেরা সপ্তম শতক হতে চতুর্দশ শতাব্দী পর্যন্ত জ্ঞান বিজ্ঞানে নতুন নতুন আবিষ্কারের ফলে বিশ্বে খ্যাতি অর্জন করেছিল তখনও ইউরোপের জনগণ ছিল অজ্ঞানতার অন্ধকারে নিমগ্ন।

 মহানবী হযরত মোহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর ঋণের স্বীকৃতি তারা না দিলেও বেশ কিছু নিষ্ঠাবান অমুসলিম ঐতিহাসিক একথা শ্রদ্ধাভরে উচ্চকণ্ঠে স্বীকার করেছেন।

হযরত মুহাম্মদ সঃ সম্পর্কে অমুসলিম ঐতিহাসিকদের মন্তব্য:

ফরাসি চিকিৎসক ও সামাজিক নৃবিজ্ঞানী  রবার্ট ব্রিফল্ট বলেছেন আরবদের অবদানের ফলেই আধুনিক ইউরোপীয় সভ্যতা বহু বিবর্তনের মাধ্যমে বর্তমান স্তরে পৌঁছেছে। 

এই পৃথিবীতে সক্রেটিস প্লেটো থেকে শুরু করে জার্মান সমাজবিজ্ঞানী ও দার্শনিক কার্ল মার্কস ও এঙ্গেলস কিংবা ইংরেজ অর্থনীতিবিদ জন মেনার্ড কেইন্স এমন অনেকেই নিজস্ব চিন্তা ও দর্শনের আলোকে মানবতার মুক্তির কথা বলেছেন।  কিন্তু কারোর মতবাদ লাগসইভাবে কার্যকর ও চিরন্তন হয়নি। যেমনটি হয়েছিল হযরত মুহাম্মদ সঃ এর মাধ্যমে। মানবতার মহান মুক্তিদুত হিসাবে এটাই মোহাম্মদ সঃ এর শ্রেষ্ঠত্ব। 

আমেরিকার প্রখ্যাত গবেষক ও পণ্ডিত এম. এইচ হার্ট তাঁর রচিত “THE HUNDRED” গ্রন্থে পৃথিবীর সর্বকালের ১০০ মহা মনীষীর নাম তালিকাভুক্ত করেছেন। লেখক তাঁর গ্রন্থে সর্বপ্রথম মহানবী সঃ – এর নাম লিখেছেন।

আমেরিকায় শিকাগো বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর জুলুস জ্যাসারম্যান তাঁর “Who are the world’s great leaders” গ্রন্থে লিখেন; সম্ভবত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ নেতা হচ্ছেন মোহাম্মদ (সঃ)।

জর্জ বার্নার্ড শ বলেন- বিশ্ববাসী! যদি তোমরা নিজেদের সমস্যার সমাধান করতে চাও এবং সর্বাঙ্গীন সুন্দর জীবন ব্যবস্থা কামনা কর তবে সংসার নিয়ন্ত্রণের ভার মোহাম্মদ সঃ-এর হাতে ছেড়ে দাও।

সার্বিক বিশ্লেষণের ভিত্তিতে   একথা দ্ব্যর্থহীন ভাষায় ঘোষণা করা যায় যে হযরত মোহাম্মদ (সঃ) এর আদর্শ জীবন চরিত্র পূর্ণাঙ্গ, ভারসাম্যপূর্ণ, কল্যাণকর ও সার্বজনীন। এর কোন বিকল্প হতে পারে না। বর্তমান অশান্ত বিশ্বে মানুষ তার পূর্ণাঙ্গ জীবনাদর্শ অনুসরণ ও অনুশীলনের মাধ্যমে দেশ গঠন করতে পারলেই প্রকৃত কল্যাণ ও শান্তি লাভ করতে পারবে।

মো. মুকুল হায়দার
সহযোগী অধ্যাপক, রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ,
সরকারি মাইকেল মধুসূদন কলেজ, যশোর

2 replies on “দেশ গঠনে যুবসমাজঃ মহৎ জীবনের অনুশীলনে হযরত মুহাম্মদ সঃএর জীবন”

যুবসমাজ যদি রাসুল (সঃ)-এর জীবন থেকে শিক্ষা নেয়, তাহলে নৈতিক ও শক্তিশালী দেশ গড়া সম্ভব ইনশাআল্লাহ। ✨

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *